জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সরকার এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আইনগত দিক ভালোভাবে দেখে সরকার বাস্তবায়ন করবে। যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামায়াত স্বাধীন দেশে আর রাজনীতির কোনো সুযোগ না পায়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ এবং সকল সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে যৌথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে যৌথসভার শুরুতে সংঘাতে নিহতের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে এক মিনিট নীলবতা পালন করেন নেতারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে কোনো নিরপরাধ কাউকে জড়ানো যাবে না। অতি উৎসাহী হয়ে যাতে নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা না হয়, সে বিষয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যে ষড়যন্ত্র হয়েছে-কোথায় বৈঠক হয়েছে, কোথা থেকে নির্দেশ এলো আর অর্থের জোগান কিভাবে হয়েছে? সব ষড়যন্ত্র এখন দিবালকের মত স্পষ্ট, জাতিকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ আর নেই। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা, নাগরিক সমাজ দাবি করে আসছে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি’ সে সময়ে গঠিত গণআদালত, পরবর্তীতে গণজাগরণ মঞ্চের দাবিও ছিলো জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করা। এছাড়া দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়েও জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকলে কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন নজির আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হিটলারের নাৎসি পার্টি রাজনীতি করতে পারে না জার্মানিতে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক জামায়াতে ইসলামীকে দল হিসেবে যুদ্ধপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ আছে। মুলত জামায়াত ধর্মের মুখোশ পরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। নানান সমেয় তাদের দ্বারা প্রকাশ্যে ও গোপনে নানা অপতৎপরতা নাশকতা, ষড়যন্ত্র রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততা থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং দেশের জনগণ সেটা অবলোকন করেছে।
গ্রেফতার নিয়ে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি নয়, বরং ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এতে কোনো নিরীহ ব্যক্তি বা সাধারণ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানি না হয়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও স্বরাষ্টমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। গণগ্রেফতারের নামে কেউ যাতে গ্রেফতার না হয় সে ব্যাপারে আমাদেরও সিদ্ধান্ত রয়েছে দলের। কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে কোন অবস্থায় হয়রানি করা যাবে না। গ্রেফতারের সংখ্যা বেশি দেখানোর জন্য কেউ যেন অতি উৎসাহী হয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হয়রানি না করে। এ সময় বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুলের কাছে প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুলেল কাছে সবাই নিরপরাধী। তাহলে প্রশ্ন এই ধ্বংষযজ্ঞ চালালো কারা। কারা অগ্নিসংযোগ করলো। কারা রাষ্ট্রের সম্পদ ভস্মীভূত করলো। আজকে বাংলাদেশে যে নারকীয় ধ্বংষযজ্ঞ চালানো হয়েছে এগুলো কারা করেছে? আজকে কথায় কথায় সরকার ও আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করা হয়। আমি পরিস্কার বলতে চাই, এই ঘটনা প্রবাহে আমরা আওয়ামী লীগের লোকেরা আমাদের কর্মীরা আমরা আক্রান্ত আমরা আক্রমনকারী ছিলাম না। এখন অপবাদ দেয়া হচ্ছে আক্রান্তকারীদের। আজকে সেতু ভবন, বিটিবি ভবন, মেট্রারেলে, এলিভেটেট এক্সপ্রেস ওয়ে, হানিফ প্লাইওভারের দিকে তাকান, ২৩৫টি থানা ও পুলিশ বক্স ভস্মীভূত হয়েছে। ফখরুল সাহেব এগুলো কি আমরা করেছি। কারা এই নারকীয় বর্বরতার আশ্রয় নিয়েছে? তাদের সাথে আপনি জাতীয় ঐক্য করছেন। স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করে না। নরসিংদী কারাগারে অস্ত্র-গুলি কারা নিয়ে গেছে। কোনো জঙ্গি শক্তি। ফখরুল সাহেব আপনাদের দোসর, বন্ধু এজন্য আজকে ইগনোর করছেন। সারা দেশ দেখেছে, জাতি দেখেছে নরসিংদী, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রামে কি করেছেন। ছয় তলা ভবন থেকে কিভাবে ফেলে দেয়া হয়েছে। আমাদের কর্মীদের হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফখরুল সাহেব এগুলো কি আপনার চোখে পড়ে না। মিথ্যার বেসাতি করছেন। ছাত্র আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনকে কারা হাইজ্যাক করলো। কারা শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলো। কারা এই আন্দোলনকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফখরুল সাহেব সব তথ্যই আমাদের কাছে আছে। কোথা থেকে নির্দেশ এসেছে, উস্কানি এসেছে, কোথায় কোথায় বৈঠক করেছেন, অর্থ যুগিয়েছেন, কোন কৌশলে অর্থ পাঠিয়েছেন, সব আমরা জানি। সব ষড়যন্ত্রই এখন জাতির কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। আজকে মিথ্য্যার বেসাতি করে, আবলে- তাবোল বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ এখন আর নেই। বিরাজমান পরিস্থিতিতে ঢাকা মহানগরসহ সকল মহানগর, সকল জেলা সদর, সকল উপজেলা, থানা-ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যন্ত আমাদের নেতাকর্মীদের কারফিউ মেনে চলার আহ্বান জানান এবং নেতাকর্মীদের সতর্ক প্রস্তুতি নেয়ারও আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। গুজব-আতঙ্ক সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এমন কিছু পেলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
যৌর্থসভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, এডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা.মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল, এস এম কামাল, মির্জা আজম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগসহ ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সরকার : ওবায়দুল কাদের
- আপলোড সময় : ৩০-০৭-২০২৪ ১০:০৮:৪২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-০৭-২০২৪ ১১:৩৬:৩২ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ